
সমাজ ও সাহিত্যে “কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা” একটি অত্যন্ত পরিচিত, বেদনাবিধুর এবং চিরন্তন চিত্র। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাঙালি সমাজে, এই শব্দটি একটি গভীর সামাজিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণার প্রতীক। যখন একজন বাবা তার মেয়ের বিয়ের বয়স হওয়ার পর উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান পান না, কিংবা যৌতুক ও বিয়ের বিপুল খরচের জোগান দিতে হিমশিম খান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চারপাশ দেখি কন্যাদায়গ্রস্তদের করুন চেহারা। কোন বিয়ে বাড়িতে গেলেও কন্যা পক্ষ নিজেদেরকে খুব ছোট ভাবেন। আর বর পক্ষ খুব দেমাগ দেখান। ধর্মে কি বলে তা আমার জানা নেই।কারন আমি ধর্ম বিশেষজ্ঞ নয়। তবে তার উল্টোটাও দেখি বিভিন্ন উপাখ্যানে। রাজা দশরথ চারপুত্রের বরযাত্রী নিয়ে রাজা জনকের কাছে এলে জনক তাঁদের আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানান। তখন জনক দশরথের চরণ স্পর্শ করতে গেলে দশরথ বাধা দেন। বাধা দিয়ে দশরথ বলেন ‘আপনি কন্যাদান করেছেন তাই আপনি দাতা। আর আমি কন্যা গ্রহণ করতে এসেছি তাই আমি যাচক। দাতাই সর্বদা শ্রেষ্ঠ। এই বিনম্র কথা শুনে জনকের চোখে জল এসে যায়। একটু ভাবুনতো এই কাহিনীতে নিহিত আছে কন্যাদানের মর্যাদা, কন্যাসন্তানের মূল্য এবং কন্যার পিতার ত্যাগ ও ভালোবাসার গভীর তাৎপর্য লুকিয়ে আছে।
আসুন চলমান প্রথা ভেঙ্গে ফেলি।




