অন্যান্য

সত্য কথায় নিজের উন্নতি হয় আর সমাজ হয় লাভবান

সত্যের পথ ধরে ধর্ম চলে,আপনি সত্যের অনুসরণ করেন বা সর্বদা সত্য কথা বলেন এবং সত্যের পথে চলবেন তাহলে বুঝবেন আপনি ধর্মের পথে চলছেন।

প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, ঢাকা

সত্য বলতে তাকেই বুঝায় তা মূলত চিরন্তন, অর্থাৎ পূর্বে ছিল, এখন আছে পরেও থাকবে। বাস্তব দৃষ্টিতে এমনটি পাওয়া দুষ্কর। মনুষ্য দৃষ্টির সাধারণ গোচরে এমনটি পাওয়া খুবই কঠিন। বাস্তবতার নিরিখে সাধারণভাবে সত্য বলতে বুঝি আমাদের দৃষ্টিতে যা ঘটল তাই সত্য অর্থাৎ মনুষ্য চোখের দৃষ্টি গোচরীভূত কর্মই হচ্ছে সত্য।

যেমন অমল কমলকে মারল বা আঘাত করল এটা অমল কমল ছাড়াও যারা উপস্থিত থেকে দেখল তারা সবাই বলবে অমল কমলকে মেরেছে। অমল কর্তৃক কমলকে আঘাত করা ঘটনাটা সত্য ঘটনা। ধর্মীয় দৃষ্টি আর সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এক নাও হতে পারে। ধর্মীয় দৃষ্টি আরও প্রখর এবং সুদূর প্রসারী। ধর্ম সংসারের সব ঘটনাকেই সত্য মনে করে সাংসারিক জীবনেকিন্তু এর বাইরেও যে জগৎ আছে যা সাধারণে দেখে না ধর্মের দৃষ্টিতে তা দেখতে হয়। অর্থাৎ আমার জীবনের পরও কর্ম আছে যেখানেও ঘটনা ঘটে একথাই সে বুঝায়।

সত্য কথায় নিজের উন্নতি হয় আর সমাজ হয় লাভবান। সত্যের পথ ধরে ধর্ম চলে। ধর্ম সর্বদা সত্যাশ্রয়ী। সত্যকে বাদ দিয়ে কখনো ধর্ম হয় না। সত্যবাদীই সতিকারের ধার্মিক। আপনি সত্যের অনুসরণ করেন বা সর্বদা সত্য কথা বলেন এবং সত্যের পথে চলবেন তাহলে বুঝবেন আপনি ধর্মের পথে চলছেন। সত্যের সাহস অদম্য। সত্যবাদীর বুকের জোর অনেক। সত্যই সুন্দর। সত্যের জয় চিরদিন হয়। সত্য সম্পর্কে অনেক মুনিঋষি ভাল ভাল কথা বলে গেছেন। যেমন শ্রীরাকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন, “যে সত্য কথাটি ধরে আছে সে ভগবানের কোলে শুয়ে আছে।”
আমাদের প্রতিটি মানুষের উচিত সত্য কথা বলা আর সত্যের পথে চলা। সত্যই আমাদেরকে করবে সুন্দর, সুন্দর আর সুন্দর। সুখী হব আমি, আপনি আমরা সবাই। তাই আসুন অনুসরণ করি সত্যকে। জয় হবেই।

সত্য কথা বললে যে কোন অন্যায় করা যায় না সে সম্পর্কে এখানে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হল-
এক গুরু এবং শিষ্যের ঘটনা। গুরুর শিষ্যটি ছিল চোর। একজন গুরুর শিষ্য চোর এটা গুরুর জন্য বিব্রতকর অবস্থা বৈ কি? গুরু ভাবতে লাগলেন কিভাবে শিষ্যকে সৎ পথে আনয়ন করা যায়। শুরু শিষ্যকে চুরি করা বন্ধ করতে বললে শিষ্য সাফ সাফ জানিয়ে দেন এটা তার পক্ষে সম্ভব না। প্রয়োজনে সে গুরু ত্যাগ করতে পারে কিন্তু চুরি নয়। গুরু পড়লেন মহা বিপদে, চোরকে শিষ্য রাখাও যায় না আবার চৌর্যবৃত্তি থেকে একজনকে যদি ফিরিয়ে আনতে না পারেন তাহলে কিসের গুরু। তিনি সমাজে তার বিশেষত্বই বা কিভাবে দেখাবেন। ভাবতে ভাবতে তিনি উপায় উদ্ধার করলেন। তিনি শিষ্যকে বললেন “বাবা তুমি আমার একটা কথা রাখবে। চুরি তুমি কর তাতে আমার আপত্তি নেই।” গুরুর এ ধরণের কথা শুনে শিষ্য পুলকিত হল। শিষ্য কথা দিলেন ঠিক আছে গুরু আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আপনার একটি কথা রাখব। গুরু বললেন, “তুমি আমাকে কথা দাও তুমি কখনো সত্য ছাড়া মিথ্যা বলবে না।” শিষ্য রাজি।
এরপর শিষ্য যখন চুরি করতে যায় পথে কারও না কারও সাথে দেখা হয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করে কি ব্যাপার তুমি যাচ্ছ কোথায়? শিষ্য গুরুর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে করে, তখন সে আর মিথ্যা বলতে পারে না, ফলে ফিরে আসে।চুরি করতে গিয়ে এমনিভাবে দিনের পর দিন বাঁধা পড়তে থাকলে এক সময় শিষ্য ঠিক করে, যা চুরিই আর করব না। অর্থাৎ গুরুর ঐ কৌশল শিষ্যকে ভাল করল।

অনুধাবন করতে পারি যে সত্যই হচ্ছে সুন্দর, সত্যই হচ্ছে ধর্ম, সত্যই হচ্ছে সৎ এবং সত্যের অনুসারীরাই একদিন ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে সক্ষম। তাইতো সনাতন ধর্মে বলা হয়েছে “সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্”।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button