ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাপতি এড. সমীর কর, সাধারণ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন চৌধুরী, সংগঠিত সম্পাদক সুরঞ্জিত নাগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আগামী দুই বছরের জন্য গঠিত নতুন কমিটিতে অ্যাডভোকেট সমীর কর সভাপতি এবং শান্তি রঞ্জন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ফেনী শহরের ঐতিহ্যবাহী জয়কালী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা নবগঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট মানিক লাল দাস, অনিল নাথ, অনিল বনিক, মাষ্টার দুলাল দাস, হরিপদ সাহা ও সহদেব দাস। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিপুল শর্মা, মরণ মজুমদার ও মঞ্জু রানী দেবী। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সুরঞ্জিত নাগ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে শান্ত পাল।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হীরা লাল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সহ-সভাপতি ডি.এন. চ্যাটার্জি, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী (পিন্টু)।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনিল নাথ ও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তপন করের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্মীয় বিভেদ কিংবা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের কোনো স্থান নেই। অতীতে একটি রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু দেশের মানুষ সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “ফেনীতে বিএনপির আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেদখল হওয়া সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দশমী ঘাটের জায়গা উদ্ধার করে দিয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সবসময় কঠোর। যতদিন আমি ফেনীর এমপি থাকবো, নিজে দুর্নীতি করবো না এবং কাউকেও দুর্নীতি করতে দেবো না।”

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রিয়রঞ্জন দত্ত, জেলা পূজা কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক ভূপাল চন্দ্র ভৌমিক এবং ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সভাপতি জীবন আচার্য্য।

সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




